
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ন্যাটো জোটের কিছু সদস্য দেশের সম্পৃক্ততা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তেহরান অভিযোগ করেছে, যুদ্ধ চলাকালে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ও লজিস্টিক সহায়তা দিয়ে কার্যত সংঘাতে অংশ নিয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছেন যে ইউরোপের বেশ কয়েকটি মিত্র দেশ ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাশিত মাত্রায় সমর্থন দেয়নি। ইতালি, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের নাম উল্লেখ করে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে স্পেনের ভূমিকারও সমালোচনা করেন।
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেন, কিছু ইউরোপীয় দেশের সীমিত সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সামরিক জোটের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তার মতে, যুদ্ধকালীন সময়ে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারে বাধা দেওয়া হলে জোটের ঐক্য দুর্বল হতে পারে।
তবে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধ চলাকালে ন্যাটোর একাধিক সদস্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাদের সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে। যদিও কয়েকটি ব্যতিক্রম ছিল, অধিকাংশ মিত্র দেশই লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় দেশগুলোর অংশগ্রহণ সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে না হলেও ঘাঁটি, আকাশসীমা, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করার বিষয়টি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণেই ইরান ন্যাটোকে ‘সহযোগী পক্ষ’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই ইস্যুতে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন আরও দৃশ্যমান সমর্থন চাইলেও, অন্যদিকে অনেক ইউরোপীয় দেশ সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
ফলে ইরান যুদ্ধের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এটি ন্যাটো জোটের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক, ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতি এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে।
মন্তব্য করুন