
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার সময় তুরস্ক চাইলে সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারত। তবে তার ব্যক্তিগত অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান যুদ্ধের বাইরে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। এ কারণে এরদোয়ানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প এবং ভবিষ্যতে তাকে সন্তুষ্ট করবে এমন একটি পদক্ষেপ নেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, এরদোয়ান এমন একজন নেতা ছিলেন যিনি চাইলে সংঘাতে যুক্ত হতে পারতেন। তার ভাষায়, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলের নীতির সমর্থক নন, তবে তার অনুরোধে তিনি যুদ্ধ থেকে দূরে ছিলেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, এরদোয়ান একজন শক্তিশালী ও প্রভাবশালী নেতা। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন বিষয়ে তার অনুরোধের প্রতি এরদোয়ান ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।
আগামী ন্যাটো সম্মেলনকে সামনে রেখে তুরস্কের জন্য নতুন করে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, তিনি এমন একটি সিদ্ধান্ত বিবেচনা করছেন যা তুরস্ককে সন্তুষ্ট করতে পারে। যদিও এ বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা দেননি।
অন্যদিকে, তুরস্ক কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি যে তারা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। বরং চলমান উত্তেজনার সময় তুরস্ক নিজেও সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ছিল বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
সম্প্রতি তুরস্ক ও ইসরায়েলের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়েছে। গাজা যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে এরদোয়ান একাধিকবার ইসরায়েলের কড়া সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুধু ফিলিস্তিন নয়, পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
এদিকে তুরস্ককে পুনরায় অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইনি শর্ত পূরণ হলে এ বিষয়ে অগ্রগতি সম্ভব।
উল্লেখ্য, রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয়। বর্তমান আইন অনুযায়ী, এস-৪০০ ব্যবস্থা বহাল থাকলে তুরস্কের ওই কর্মসূচিতে ফিরে আসা জটিল হয়ে থাকবে।
তবে তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাকের মতে, ট্রাম্প ও এরদোয়ানের ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের কারণে দুই দেশের মধ্যে এফ-৩৫ ইস্যুতে সাম্প্রতিক আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন