
ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে আরও গভীরে প্রবেশ করে লিতানি নদীর উত্তরাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হয়েছে। দেশটির সেনারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বউফোর্ট দুর্গের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পাশাপাশি নাবাতিয়েহ শহরের উপকণ্ঠেও পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই অগ্রগতি ইসরায়েলের জন্য দক্ষিণ লেবাননে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার ইঙ্গিত হতে পারে। বর্তমান অবস্থায় ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় ২ হাজার বর্গকিলোমিটার লেবানিজ ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
সংঘাতের শুরুতে ইসরায়েল জানিয়েছিল, সীমান্তসংলগ্ন লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সরিয়ে দেওয়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তবে এখন ইসরায়েলি সেনাদের কার্যক্রম সেই সীমার অনেক বাইরে বিস্তৃত হয়েছে। সামরিক বাহিনী জাহরানি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা জারি করেছে, যা তাদের নিয়ন্ত্রণের পরিধি আরও বাড়িয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা নাবাতিয়েহ শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত জাওতার আল-শারকিয়াহ ও চুকিন এলাকায় পৌঁছেছে। এদিকে রোববার ভোরে দেইর আল-জাহরানি এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় কয়েকজন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আলোচনায় হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে চলমান হামলার মধ্যে এসব আলোচনা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে হিজবুল্লাহ।
পর্যবেক্ষকদের মতে, লেবানন সীমান্তে পরিস্থিতির অবনতি মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর কূটনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার সঙ্গে লেবাননের পরিস্থিতি ক্রমেই আরও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়ছে।
মন্তব্য করুন