
কুসরায় ফিলিস্তিনি পরিবার অবরুদ্ধ: ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ বললেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৪ আগস্ট ২০২৬
অধিকৃত পশ্চিম তীরের কুসরা গ্রামে ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়ি ঘেরাও করে রাখার ঘটনায় ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের কঠোর সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। বিরল এক মন্তব্যে তিনি অভিযুক্ত বসতিস্থাপনকারীদের ‘ইসরায়েলি সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
নাবলুসের দক্ষিণে অবস্থিত কুসরা গ্রামের তিনটি ফিলিস্তিনি বাড়ি কয়েক দিন ধরে ঘেরাও করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অবরোধের কারণে পরিবারগুলোর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং খাবার, পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। একটি বাড়িতে মার্কিন নাগরিকও অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
হাকাবির কঠোর অবস্থান
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, পরিবারটিকে ভয় দেখানো ও হয়রানি করার উদ্দেশ্যে সংঘটিত ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি এ ধরনের আচরণের কোনো গ্রহণযোগ্য অজুহাত নেই বলেও মন্তব্য করেন।
হাকাবি জানান, মার্কিন দূতাবাস বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং তাদের অনুরোধের পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বসতিস্থাপনকারীদের সরানোর উদ্যোগ নেয়। তিনি তাদের ‘অবৈধভাবে প্রবেশকারী’ হিসেবে বর্ণনা করেন, যাদের উদ্দেশ্য ছিল ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের ভয় দেখানো।
কেন ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ?
ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র অতীতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে তাদের কর্মকাণ্ডকে সরাসরি ‘সন্ত্রাস’ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করা মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যে খুবই বিরল। ফলে হাকাবির সর্বশেষ মন্তব্যকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কাছ থেকেও প্রকাশ্য নিন্দা চেয়েছে বলে মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স। তবে এ বিষয়ে নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ্য মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুসরায় পরিস্থিতি
এদিকে কুসরায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে। কিছু বসতিস্থাপনকারীর স্থাপনা সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এলাকাটিতে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। শুক্রবার অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা কয়েকজন কর্মীকেও ইসরায়েলি বাহিনী বাধা দেয় বলে প্রতিবেদন এসেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরও কুসরার এই অবরোধের নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে গুরুতর ও অমানবিক পরিস্থিতি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র কি চাপ প্রয়োগ করে অবরোধ বন্ধ করতে পারবে?
কুসরার ঘটনা এখন শুধু স্থানীয় সংঘাত হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই; এটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের মধ্যেও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সরাসরি নিন্দা এবং নেতানিয়াহুর সরকারের ওপর প্রকাশ্য অবস্থান নেওয়ার চাপ পরিস্থিতিটিকে কূটনৈতিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
তবে বাস্তবে বসতিস্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ড পুরোপুরি বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র কতটা কার্যকর চাপ প্রয়োগ করতে পারবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কুসরার ঘটনাটি পশ্চিম তীরে বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা, ফিলিস্তিনি নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং ইসরায়েলি সরকারের নীতির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়াতে পারে।
International news । UD 24 news
মন্তব্য করুন