
আবার বর্ষা এলেই ‘পানিতে নেমে শুটিংয়ের নাটক’ দেখতে চাই না: সারজিস
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | ইউডি ২৪ নিউজ
চট্টগ্রামে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, বর্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বশীলদের অনেকেই চলতি মৌসুমে নগরবাসীর ভোগান্তির কথা ভুলে যান। এরপর আবার বর্ষা এলে হাঁটু বা কোমরসমান পানিতে নেমে ছবি-ভিডিও তুলে নানা ধরনের ‘নাটক’ শুরু হয়। ২০২৭ সালে এমন দৃশ্য আর দেখতে চান না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের স্টেশন রোডে পর্যটন করপোরেশনের হোটেল সৈকতে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সারজিস আলম। চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সভায় দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারও বক্তব্য দেন।
‘বর্ষা শেষ হলেই সব ভুলে যায়’
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলে সারজিস আলম বলেন, বর্ষা শেষে শরৎ ও শীতের দিকে এগোলে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, এমপি কিংবা মেয়রদের অনেকেই ভুলে যান—এই বর্ষায় চট্টগ্রাম কীভাবে পানিতে ডুবে গিয়েছিল।
তার ভাষায়, আগামী বর্ষা এলেই আবার অনেকে জামাকাপড় পরে হাঁটু কিংবা কোমরসমান পানিতে নেমে শুটিং করবেন। কিন্তু তিনি বলেন, ২০২৭ সালে এই ধরনের ‘নাটক’ আর দেখতে চান না।
সাম্প্রতিক বর্ষায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় আবারও হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের প্রভাবে নগরীর বহু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়।
‘জঙ্গল সলিমপুরে ফিল্মি স্টাইলে যান, রাউজানে যাওয়ার সময় হয় না’
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফিল্মি স্টাইলে জঙ্গল সলিমপুরে গিয়েছেন। এতে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে, জায়গাটি আগে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল এবং মন্ত্রীর যাওয়ার পর তা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
তবে তিনি অভিযোগ করেন, অল্প দূরত্বের রাউজানে যাওয়ার সময় সংশ্লিষ্টদের হয় না। তার মতে, সেখানে রাজনৈতিক প্রচার বা ‘ক্লিকবেট’ ধরনের আগ্রহ কম থাকায় বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে না।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে নতুন সিন্ডিকেটের অভিযোগ
মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি নিয়েও গুরুতর অভিযোগ করেন সারজিস আলম। তিনি দাবি করেন, মালয়েশিয়া বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই সুযোগকে কেন্দ্র করে ২৫ জনের একটি নতুন সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
তার দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শ্রমবাজারের সিন্ডিকেটে থাকা একটি অংশের সঙ্গে বর্তমান বিএনপি সরকারের একটি অংশও যুক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সম্পৃক্ততার কথাও শোনা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই ধরনের অভিযোগের কথা অন্যান্য গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি পক্ষের প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সরকারি বেতনে ১৫ দিনও সংসার চলে না
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়েও কথা বলেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-২০ পর্যন্ত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন দিয়ে মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্তও সংসার চালানো কঠিন।
তার অভিযোগ, সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়নের কথা বললেও দীর্ঘদিন ধরে তা নিয়ে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। তিনি দ্রুত নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার দাবি জানান।
এনসিপির বার্তা—কথার চেয়ে চাই বাস্তব কাজ
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে-স্কেল—এই তিন ইস্যুতে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এনসিপির নেতারা। তাদের বক্তব্যের মূল সুর ছিল, শুধু প্রতিশ্রুতি বা প্রচারণা নয়, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে সারজিস আলমের বার্তা স্পষ্ট—বর্ষা এলে পানিতে নেমে ছবি তোলা নয়, বর্ষার আগেই জলাবদ্ধতা নিরসনে দৃশ্যমান ও স্থায়ী সমাধান দেখতে চান তিনি।
সারসংক্ষেপ
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সারজিস আলম বলেছেন, বর্ষা শেষ হলে দায়িত্বশীলরা নগরবাসীর দুর্ভোগ ভুলে যান, আর পরের বর্ষায় আবার পানিতে নেমে শুটিংয়ের নাটক শুরু হয়। একই সঙ্গে তিনি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগ এবং দ্রুত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি তুলেছেন।
মন্তব্য করুন