
রাত পোহালেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন: সিইসি
নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে ঘিরে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সিইসি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই এবং সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে।
সিইসি বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। বিশ্ববাসীরও এ নির্বাচনের দিকে নজর রয়েছে। দীর্ঘদিন পর এমন নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ পাওয়া নিজের জন্যও একটি বিশেষ সৌভাগ্যের বিষয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানান, সর্বশেষ ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর আর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন না হওয়ায় এ ধরনের নির্বাচনী কার্যক্রমের সঙ্গে অনেকেই সরাসরি অভ্যস্ত নন। সংসদ সচিবালয়ও দীর্ঘ সময় পর এমন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় অনুশীলন ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে, যাতে ভোটের পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে।
সিইসি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া নির্ধারিত হয়েছে। জাতীয় সংসদের অধিবেশন বর্তমানে না থাকলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আলাদা বৈঠক আহ্বান করেই ভোটগ্রহণ করা যাবে। নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের বৈঠকে আহ্বান জানানো হবে এবং তারাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মোট ভোটার ৩৪৯ জন। আগামীকাল দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার এবং বিরোধীদলীয় নেতাসহ সংসদ সদস্যরা এই নির্বাচনের ভোটার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
ভোটগ্রহণের শুরুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতার ভোট দেওয়ার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে জানান সিইসি। বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ভোট গণনার কার্যক্রমও সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা থাকবে।
সিইসি আরও বলেন, ভোট দেওয়ার পর সংসদ সদস্যরা চাইলে ভোট গণনার সময়ও উপস্থিত থাকতে পারবেন। ফলে পুরো নির্বাচন ও ভোট গণনার প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবেই সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ভোট গণনা শেষে প্রত্যেক প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট, বাতিল ভোটসহ ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করার পর নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। এখন অপেক্ষা শুধু ভোটগ্রহণের।
মন্তব্য করুন