UD 24 news
১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে

Spread the love

হামের টিকা নিয়ে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি পদক্ষেপ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে হামের টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলে নতুন করে আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। হামের টিকাদান ব্যবস্থা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে বেসরকারি খাতে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় তৎকালীন সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা ছিল—এমন অভিযোগ তুলে ড. ইউনূসসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার দাবি জানানো হয়েছে।

 

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানোর কথা জানিয়েছেন। নোটিশে অভিযোগের তদন্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যাতে তদন্ত চলাকালে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত কোনো অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এগুলো আইনি নোটিশ ও পরবর্তী আদালত কার্যক্রমে উত্থাপিত অভিযোগ।

 

কী নিয়ে মূল অভিযোগ?

 

আইনি পদক্ষেপের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দেশের হামের টিকাদান ব্যবস্থা। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, হামের মতো সংক্রামক রোগের টিকাদান কর্মসূচিকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার পরিবর্তে বেসরকারি খাতনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর ফলে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে দেশে হামের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করে—এমন অভিযোগও করা হয়েছে।

 

আইনি নোটিশে এ বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়। তদন্তে তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, টিকা সংগ্রহ, অর্থায়ন এবং টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

 

হামের সংক্রমণ কীভাবে আলোচনায় আসে?

 

২০২৬ সালের শুরুতে দেশে হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকলে টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি ও টিকা সংগ্রহ নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে টিকার সরবরাহ ও নিয়মিত কর্মসূচি নিয়ে সংকটের কথা উঠে আসে।

 

এ সময় হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। পরবর্তীতে ইউনিসেফের কাছ থেকে টিকা সংগ্রহের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের খবরও প্রকাশিত হয়।

 

এদিকে, হামের টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে আগের সরকারের সিদ্ধান্তের কারণ এবং টিকা সংগ্রহে বিলম্ব হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নও সামনে আসে।

 

শুধু ড. ইউনূস নন, আরও যাদের নাম এসেছে

 

আইনি নোটিশ ও পরবর্তী রিট আবেদনে শুধু ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম নয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আরও কয়েকজন সাবেক উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভূমিকা তদন্তের দাবি জানানো হয়।

 

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাবেক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খান, নূরজাহান বেগম, ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়েও তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে।

 

আইনি নোটিশের পর কী হয়েছে?

 

এই ইস্যুতে আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি নতুন নয়। এর আগে ৬ এপ্রিল ২০২৬-এ একই অভিযোগ তুলে সরকারের সংশ্লিষ্ট সচিবদের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। সেখানে তদন্ত কমিটি গঠন এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ড. ইউনূসসহ সংশ্লিষ্টদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার দাবি জানানো হয়।

 

এরপর ১৭ মে হাইকোর্টে এ বিষয়ে রিট আবেদন করা হয়। ওই রিটে ড. ইউনূসসহ মোট ২৪ জনের ভূমিকা তদন্ত এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চাওয়া হয়।

 

রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছিল।

 

অভিযোগের বিপরীতে কী বলছে বাস্তব প্রেক্ষাপট?

 

হামের টিকার সংকট ও সংক্রমণকে কেন্দ্র করে তখনকার টিকাদান নীতি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষ যেখানে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বাইরে টিকাদান সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে দায়ী করছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট সময়ের নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে টিকা সংগ্রহ ও কর্মসূচি পরিচালনার বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যাও এসেছে।

 

অর্থাৎ, দেশে হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বাস্তব হলেও এর জন্য নির্দিষ্টভাবে ড. ইউনূস বা তার সরকারের সিদ্ধান্তকে দায়ী করা হয়েছে কি না, সেটি তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ায় যাচাই হওয়ার বিষয়।

 

এখন মূল প্রশ্ন কী?

 

আইনি নোটিশের মাধ্যমে মূলত তিনটি বিষয় সামনে এসেছে—হামের টিকাদান কর্মসূচিতে কোনো নীতিগত পরিবর্তন হয়েছিল কি না, সেই পরিবর্তনের ফলে টিকা সরবরাহ বা সাধারণ মানুষের টিকাপ্রাপ্তিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল কি না এবং তৎকালীন সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো আইনগত দায় রয়েছে কি না।

 

এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে তদন্ত প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন নোটিশদাতা আইনজীবী।

 

তবে আইনি নোটিশ বা রিটে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা মানেই তার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালতের সিদ্ধান্ত বা তদন্তের চূড়ান্ত ফল না আসা পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

 

এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় এবং আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমে অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে আরও সময় লাগবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কেরানীগঞ্জের কদমতলী মেইন রোডে প্রকাশ্যে ময়লা, দেখার কেউ নেই!

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ১১

ইউটিউব মনিটাইজেশনে বড় পরিবর্তন, ২০২৭ থেকে দ্বিগুণ হচ্ছে আয়ের শর্ত

শাহজালাল মাজারে উত্তেজিত সমু চৌধুরী, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়

তারেক রহমানকে দুটি আমন্ত্রণ, দিল্লির বার্তা জয়সওয়ালের

কুসরায় তাণ্ডব, বসতিস্থাপনকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ বললেন হাকাবি

বাগদাদে ইরানের শীর্ষ কমান্ডার, অস্ত্র সমর্পণ নিয়ে গোপন বৈঠক

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

১০

ফেসবুক মনিটাইজেশন বন্ধ: কারণ ও সমাধানের উপায়

১১

শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে মুখ খুলল ভারত

১২

ট্রাম্পের ১৫ দফা গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান ইসরায়েলের, এরপর কী?

১৩

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল অলি আহমদ

১৪

বাড়িওয়ালাকে হত্যার পর মরদেহ ১১ প্যাকেটে, ভাড়াটিয়া আটক

১৫

পশ্চিম তীরে ৭০টির বেশি ঐতিহাসিক স্থাপনা নিয়ন্ত্রণে ৩৭ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ ইসরায়েলের

১৬

দক্ষিণ লেবাননে বিস্ফোরণ, ২ ইসরায়েলি সেনা নিহত; বাড়ছে উত্তেজনা

১৭

শিশু নিরাপত্তায় ব্যর্থ, মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

১৮

কারিনার মৃত্যুতে নতুন প্রশ্ন | ভেজাল খাদ্য, লিভার রোগ ও বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সংকট

১৯

মৃত্যুদণ্ডের রায় উপেক্ষা করে দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার

২০