
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০২৬
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের মানফুহা এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার-সংক্রান্ত একটি দুর্ঘটনায় পাঁচ পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা নতুন করে এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ জুলাই সংঘটিত এ ঘটনায় নিহতরা সবাই পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মানসেহরা জেলার বাসিন্দা।
যদিও ঘটনাটি সৌদি আরবে ঘটেছে, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রয়োজনীয় সতর্কতা না মানলে বাংলাদেশেও এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে বাসাবাড়ি, মেস ও ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাব বড় ঝুঁকি তৈরি করে।
বাংলাদেশে অনেক ভোক্তার অভিযোগ, নতুন এলপিজি গ্যাস কিনতে গেলেও অনেক সময় নতুন সিলিন্ডারের পরিবর্তে পুরোনো ও বহুবার ব্যবহৃত সিলিন্ডার দেওয়া হয়। এসব সিলিন্ডারের গায়ে অনেক সময় উৎপাদনের তথ্য, পরীক্ষার (টেস্ট) চিহ্ন বা পুনঃপরীক্ষার (রি-টেস্ট) তথ্য স্পষ্টভাবে দেখা যায় না। আবার দীর্ঘদিন ব্যবহারে সিলিন্ডারে মরিচা, ক্ষয় বা ভালভের ত্রুটিও তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো পরীক্ষা (Periodic Testing) না করা বা ক্ষতিগ্রস্ত সিলিন্ডার ব্যবহার করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই সিলিন্ডার গ্রহণের সময় এর বাহ্যিক অবস্থা, সিল ও ভালভ ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সিলিন্ডার নিজে থেকে বিস্ফোরিত হয় না। সাধারণত—
এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত সিলিন্ডার, ত্রুটিপূর্ণ রেগুলেটর, নিম্নমানের পাইপ এবং নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা না করাও দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
সৌদিতে পাঁচ পাকিস্তানি নাগরিকের প্রাণহানির ঘটনাটি আমাদের জন্যও একটি সতর্কবার্তা। এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারে সামান্য অসতর্কতা বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই নতুন গ্যাস নেওয়ার সময় সিলিন্ডারের অবস্থা যাচাই করা, নিরাপদ সরঞ্জাম ব্যবহার করা এবং কোনো ত্রুটি দেখলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়াই দুর্ঘটনা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
(বিঃদ্রঃ: বাংলাদেশে এলপিজি সিলিন্ডারের নিরাপত্তা ও পরীক্ষার মানদণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কোনো সিলিন্ডার ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলে তা ব্যবহার না করে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা কর্তৃপক্ষকে জানান।)
মন্তব্য করুন