Dawan Rony
৭ জুন ২০২৬, ১:০৭ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

মিরপুরে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ৭ জুন, ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরের চাঞ্চল্যকর শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রায় আজ রবিবার ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল অপরাধের ভয়াবহতা ও নির্মমতা বিবেচনা করে প্রধান দুই আসামি সোহেল ও স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত সার ও রায়

আদালত সূত্রে জানা যায়, অমানবিক এই অপরাধে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার দায়ে আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। বিচারক তার রায়ে উল্লেখ করেন, অপরাধীদের এ ধরনের নৃশংসতা সুস্থ সমাজের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। তাই সর্বোচ্চ শাস্তির আদেশ প্রদান করা হলো। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিদের প্রত্যেককে আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

২০২৬ সালের শুরুতে মিরপুরের এই মর্মান্তিক ঘটনাটি সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। শিশুকন্যা রামিসাকে প্রথমে ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে হত্যার পর মরদেহ গুম করার চেষ্টা করা হয়েছিল। মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটিত করে। ঘটনার পরপরই পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে সোহেল ও স্বপ্নার সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করে তাদের গ্রেপ্তার করে।

আদালতে যে পরিবেশ ছিল

রায় ঘোষণার সময় আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছিল। রায় শোনার পর ভুক্তভোগী রামিসার পরিবার ও নিকটাত্মীয়দের কান্নায় আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। রামিসার মা সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমরা চেয়েছিলাম খুনিদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয়। আদালত আজ আমাদের ন্যায়বিচার দিয়েছেন, যা আমাদের কিছুটা হলেও শান্তি দিচ্ছে। এই রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়, সেটাই এখন একমাত্র চাওয়া।”

আইনি লড়াই ও প্রতিক্রিয়া

রাষ্ট্রপক্ষ: সরকারি কৌশলী আদালতকে জানিয়েছিলেন যে, আসামিদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক তথ্য ছিল যা অপরাধকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছে। রায়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

আসামিপক্ষ: আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর উচ্চ আদালতে আপিল করার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

সামাজিক প্রতিক্রিয়া: সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। মানবাধিকার কর্মীরা মনে করছেন, এ ধরনের রায় শিশু নির্যাতন ও অপরাধ প্রবণতা কমাতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।

উপসংহার

রায় ঘোষণার মাধ্যমে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া সমাপ্তির পথে। বিচারিক প্রক্রিয়ার এই দ্রুত নিষ্পত্তি শিশু সুরক্ষায় রাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ৪, আহত ২০

নেতানিয়াহুর কাতারে হামলা নিয়ে গর্ব, গাজার অর্থ নিয়ে নতুন দাবি

মার্কিন অর্থনৈতিক চাপের মুখে ঐক্যের আহ্বান পেজেশকিয়ানের

বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটে মানুষের কষ্টে দুঃখ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

সরকার ক্ষমতায় এসে জুলাই সনদের সঙ্গে বেইমানি করেছে: জামায়াত আমির

কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের দাবি শফিকুর রহমানের

কেরানীগঞ্জের কদমতলী–হাইকোর্ট সড়কে ময়লার স্তূপ, পরিবেশ দূষণে ক্ষোভ এলাকাবাসীর

বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারী ফিরোজা বেগমের মৃত্যু

নেপালে বন্যার ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার ২ শ্রমিক

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি—লক্ষ্য জানাল সরকার

১০

এসআরবি গঠনে সংসদে বিল, র‍্যাবের জনবল-সম্পদও যাবে নতুন ইউনিটে

১১

সাড়ে পাঁচ মাস পর দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস

১২

লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র উদ্ধারে র‍্যাবের বিশেষ অভিযান

১৩

মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশের স্বার্থই অগ্রাধিকার: শামা ওবায়েদ

১৪

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক জোরদারে মন্ত্রীর সঙ্গে হাইকমিশনারের বৈঠক

১৫

ডোপ টেস্টে মাদক মেলেনি, রংপুরের চার হত্যাকাণ্ডে নতুন প্রশ্ন

১৬

কেরানীগঞ্জের আগানগরে বিদ্যুৎ সংকটে অচল ব্যবসা, ঋণের চাপে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা

১৭

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আশা

১৮

মিয়ানমারে বিমান হামলা ও সেনা নিয়োগে জান্তার দখল পুনরুদ্ধার

১৯

মালয়েশিয়ায় ২ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু সেপ্টেম্বরে

২০