
৯/১১-এর ২৫ বছর: নিহতদের স্মরণে যুক্তরাষ্ট্রে নানা আয়োজন
UD 24 News 🗞️
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ হামলার ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। দিনটি স্মরণে শুক্রবার দেশটির বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয় স্মরণসভা ও শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি। হামলায় নিহত ২ হাজার ৯৭৭ জনের পাশাপাশি উদ্ধার ও তৎপরতায় অংশ নেওয়া সাহসী মানুষদেরও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প অংশ নেন। নিহতদের স্মরণে তারা নীরবতা পালন ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
৯/১১-এর সেই ভয়াবহ দিন
২০০১ সালের ওই সকালে চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করা হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে আঘাত হানে। হামলার পর দুটি ভবনই ধসে পড়ে।
আরেকটি বিমান ওয়াশিংটন ডিসির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনে আঘাত করে। চতুর্থ বিমানটি যাত্রী ও ক্রুদের প্রতিরোধের পর পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলের কাছে একটি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়।
এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে গভীর পরিবর্তন নিয়ে আসে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সামরিক নীতি ও বৈদেশিক সম্পর্ক—প্রায় সব ক্ষেত্রেই এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে।
ট্রাম্পের বক্তব্যে বর্তমান যুদ্ধের প্রসঙ্গ
পেন্টাগনের স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প ৯/১১-এর স্মৃতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টানেন। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি তার বক্তব্যে গুরুত্ব পায়।
ট্রাম্পের বক্তব্যে ৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থান এবং বর্তমান সময়ে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে আসে।
নিউইয়র্ক ও শ্যাঙ্কসভিলেও স্মরণ
৯/১১ হামলার প্রধান ঘটনাস্থল নিউইয়র্কেও নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের স্থানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিহতদের স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলেও চতুর্থ বিমানের যাত্রী ও ক্রুদের স্মরণ করা হয়। হামলাকারীদের প্রতিরোধ করতে গিয়ে যারা জীবন হারিয়েছিলেন, তাদের সাহসিকতার কথাও অনুষ্ঠানে স্মরণ করা হয়।
বিভাজনের বদলে ঐক্যের বার্তা
২৫ বছর পর ৯/১১-এর স্মরণে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্যে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধার পাশাপাশি সামাজিক ঐক্য ও সহনশীলতার আহ্বানও এসেছে।
মিশিগানের রাজনীতিক আবদুল এল-সায়েদসহ কয়েকজন নেতা মনে করেন, ৯/১১-এর স্মৃতিকে বিভাজন তৈরির পরিবর্তে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত।
এক প্রজন্ম পেরিয়েও অম্লান স্মৃতি
৯/১১-এর হামলার ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই দিনের ক্ষত এখনো যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের কাছে স্পষ্ট। নিহতদের পরিবার, আহতরা এবং উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া অসংখ্য মানুষের জীবনে ওই ঘটনার প্রভাব আজও রয়েছে।
২৫তম বার্ষিকীর আয়োজনগুলোতে তাই শুধু অতীতের ভয়াবহতা স্মরণ করা হয়নি; ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে নিহতদের স্মৃতি ধরে রাখা এবং এমন трагেডির পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর অঙ্গীকারও উঠে এসেছে।
মন্তব্য করুন