
হানাহানি নয়, আলোচনা-সমঝোতায় দেশ এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধে সংঘাতের পথ পরিহার করে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, নানা ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে সুসংহত রাখতে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। মতপার্থক্য থাকলেও হানাহানি ও সংঘর্ষের পরিবর্তে পারস্পরিক আলোচনা এবং সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ জেলা বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে রয়েছে। জেলার মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের দাবি ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় চালুর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বেকারত্ব কমাতে নতুন শিল্প ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা জরুরি। তরুণদের কেবল সরকারি বা বেসরকারি চাকরির অপেক্ষায় না থেকে নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনসহ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
এর আগে রোববার দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
সফরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি তার মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
সফরের দ্বিতীয় দিনে সোমবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটি তার প্রথম সরকারি সফর। বিশ্ববিদ্যালয়টি বাস্তবায়িত হলে ঠাকুরগাঁওয়ের পাশাপাশি আশপাশের জেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন