
লোহিত সাগরের নৌনিরাপত্তা নিয়ে মিসর-সৌদি বৈঠক, ইয়েমেন সংকটেও গুরুত্ব
মিসরের রাজধানী কায়রোতে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখার প্রয়োজনীয়তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।
১৫ সেপ্টেম্বরের এ বৈঠকে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানসহ দেশটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় দুই দেশের সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ইয়েমেনের চলমান পরিস্থিতি গুরুত্ব পায়।
সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ বিন সালমান বাব আল-মান্দাব প্রণালি ও লোহিত সাগরে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। অন্যদিকে সিসি সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তাকে মিসরের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
বৈঠকে ইয়েমেন সংকটের একটি টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-সমর্থিত হুথিদের হাতে ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকা ও উপকূলীয় অঞ্চল চলে যাওয়ায় লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মক্কা বন্দরও তাদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
লোহিত সাগরে অস্থিরতার প্রভাব মিসরের অর্থনীতিতেও পড়েছে। বিশেষ করে সুয়েজ খালের জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎসটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সুয়েজ খালের আয় প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার কমেছিল বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে সুয়েজ খালে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে কিছুটা পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে। মিসরের সরকারি পরিসংখ্যানভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে খাল দিয়ে ১ হাজার ৩৪০টি জাহাজ চলাচল করেছে এবং আয় হয়েছে প্রায় ৫০৫ মিলিয়ন ডলার।
লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাবের নিরাপত্তা নিয়ে মিসর ও সৌদি আরবের এই আলোচনার গুরুত্ব আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও রয়েছে। এ পথ দিয়ে এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালিত হয়।
মন্তব্য করুন