
আইফোনের জন্য ডেকে নিয়ে হত্যা, অপ্রতিমের ঘটনায় তিনজন গ্রেপ্তার
UD 24 News 🗞️
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোনটি নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে পরিকল্পিতভাবে নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বাধা দেওয়ার পর তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়।
রোববার দুপুরে কুমিল্লায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের তথ্যমতে, এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও মো. কামরুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সিয়াম নামে আরও একজনকে হেফাজতে রেখে তার সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে।
তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। নিখোঁজের পর অপ্রতিমকে শেষবার কার সঙ্গে যেতে দেখা গেছে, সেটি যাচাই করতে গিয়ে তুহিনের বিষয়ে পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তদন্তে আরও কয়েকজনের নাম আসে।
পুলিশের দাবি, তুহিন অপ্রতিমকে মোবাইলে বার্তা পাঠিয়ে বাসা থেকে বের করে নিয়ে যায়। এরপর তাকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গলের দিকে নেওয়া হয়। সেখানে আইফোনটি নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতিম বাধা দেয়। একপর্যায়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল তার ওপর হামলা চালায়।
পুলিশ সুপার জানান, অপ্রতিমের মাথায় বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল থেকে আইফোন নিয়ে চলে যায় হামলাকারীরা।
তদন্তের একপর্যায়ে তুহিনের কাছ থেকে অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তুহিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ফোনটি পাওয়া যায়।
এর আগে গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল অপ্রতিম। দীর্ঘ সময়েও সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের পক্ষ থেকে সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কাছের পাহাড়ি এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম।
পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ, পাওয়া তথ্য যাচাই এবং আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন