
রুশ তেল কেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চাপ, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রভাবের আশঙ্কা ভারতের
UD 24 News 🗞️
রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ভারতকে নতুন মার্কিন শুল্কের মুখে পড়তে হতে পারে—এমন পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ধরনের পদক্ষেপ ভারত-মার্কিন সম্পর্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্যিক চাপ বাড়ানোর একটি বিস্তৃত বিল অনুমোদন করেছে। বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এতে রুশ জ্বালানি কিনতে থাকা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার বিধান রয়েছে। ভারত ও চীনসহ রাশিয়ার জ্বালানি ক্রয়কারী কয়েকটি দেশ এর আওতায় পড়তে পারে।
বিলটির লক্ষ্য মূলত রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো। একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এ অবস্থায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশের জনগণের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই নয়াদিল্লির অন্যতম অগ্রাধিকার। ভারত বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের নীতি অব্যাহত রাখবে এবং বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার সময় ভারত এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। নতুন মার্কিন উদ্যোগের সম্ভাব্য প্রভাব শুধু দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কেই নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে—এ বিষয়টিও ওয়াশিংটনকে জানানো হয়েছে।
ভারত আরও জানিয়েছে, নিজেদের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। একই সঙ্গে নতুন মার্কিন আইনের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় দেশটির সরকার বাণিজ্য ও শিল্প খাতের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।
রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রেতা। ফলে নতুন মার্কিন শুল্ক কার্যকর হলে বিষয়টি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি ভারতের জ্বালানি আমদানি নীতিতেও নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। তবে বিলটি কার্যকর হওয়ার জন্য এখনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন