
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৪
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একের পর এক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। রোববার ভোর থেকে নাবাতিয়েহ, আরব সালিম, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা ও কাফর রেমান এলাকায় চালানো এসব হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আরব সালিম এলাকায় একটি আবাসিক ভবনকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় দুই নারী নিহত হন। হামলার আগে ওই এলাকার একটি ভবন খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। এরপর সেখানে বিমান হামলা চালানো হলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকায় পৃথক হামলায় আরও দুইজন নিহত হন। একই সময়ে নাবাতিয়েহ শহর ও আশপাশের এলাকাতেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে একটি পুরোনো ভবনসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কাফর রেমানেও একটি বাড়ি ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হয়েছে। হামলার পর আহত কয়েকজনকে নাবাতিয়েহ এলাকার হাসপাতালে নেওয়া হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে উদ্ধারকাজ চালানো হয়।
হিজবুল্লাহর ড্রোনের পাল্টা জবাব দাবি ইসরায়েলের
হামলার কারণ হিসেবে ইসরায়েল জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহ দুটি ড্রোন পাঠানোর পর পাল্টা অভিযান চালানো হয়েছে।
ইসরায়েলের দাবি, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোই ছিল হামলার মূল লক্ষ্য। ইসরায়েলি বাহিনী ঘটনাটিকে চলমান যুদ্ধবিরতির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।
তবে হামলার ফলে বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনায় দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননে বাড়ছে উত্তেজনা
যুদ্ধবিরতির পরও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে বিমান হামলা ও অন্যান্য সামরিক কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।
বিশেষ করে নাবাতিয়েহ ও আশপাশের এলাকাগুলোতে সাম্প্রতিক হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, আবাসিক ভবন ও স্থানীয় স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে।
আবারও বড় সংঘাতের আশঙ্কা
হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকায় যুদ্ধবিরতি কতটা কার্যকর থাকবে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননে সাম্প্রতিক হামলায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতেও পড়ছেন।
এদিকে হামলার পর দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করা হচ্ছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
UD 24 News | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মন্তব্য করুন