
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, জ্বালানি সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্ব
ঢাকা, ২৪ আগস্ট ২০২৬: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি জ্বালানি সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, হজ ব্যবস্থাপনা এবং বাংলাদেশি জনশক্তি নিয়োগসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে।
সোমবার দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে সৌদি রাষ্ট্রদূত সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন সালমানের পক্ষ থেকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
সৌদি রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য সৌদি আরবের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জ্বালানি খাতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি সরকারি ও বেসরকারি—উভয় পর্যায়েই বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে অর্থনৈতিক সহযোগিতার আরও বড় পরিসরে কাজে লাগানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
সাক্ষাতে হজ ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সফর আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে মিনায় হাজিদের গোসলখানা ও শৌচাগার সুবিধা উন্নত করার বিষয়টি সৌদি রাষ্ট্রদূতের নজরে আনেন রাষ্ট্রপতি। জবাবে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন সৌদি রাষ্ট্রদূত।
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জনশক্তি রপ্তানি। বর্তমানে সৌদি আরবে ৩৫ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত থাকার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি সৌদি আরবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আরও জনশক্তি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় রাষ্ট্রপতি সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ এবং ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন সালমানকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। একই সঙ্গে তিনি সৌদি নেতৃত্বের ভূমিকার প্রশংসা করে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে তাদের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার এবং পারস্পরিক স্বার্থে এ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তিনি দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি এবং বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জবাবে সৌদি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে জ্বালানি, সহায়তা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সৌদি রাষ্ট্রদূতের এই সাক্ষাৎ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। নতুন রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বিদেশি কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এটি দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের অগ্রাধিকারপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরেছে। জ্বালানি নিরাপত্তা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও হজযাত্রীদের সুবিধা—সব মিলিয়ে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-সৌদি সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনার কথাই উঠে এসেছে এই বৈঠকে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিব, সামরিক সচিব, প্রেস সচিব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন