
মোদি-ট্রাম্প বৈঠকে সাংবাদিকদের প্রশ্ন না করার অনুরোধ ছিল ভারতের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এক বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার সুযোগ না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল ভারত—এমন দাবি করেছেন ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর।
গত শনিবার (২২ আগস্ট) ইকোনমিক টাইমসের এক ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। সার্জিও গোরের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বৈঠকের আগে ভারতীয় পক্ষের পক্ষ থেকে মূলত একটি বিশেষ অনুরোধ করা হয়েছিল—সাংবাদিকদের যেন প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া না হয়।
তিনি জানান, প্রথমদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ অনুরোধ মেনে নিতে সম্মত হয়েছিলেন। তবে দুই নেতা তাদের বক্তব্য শেষ করার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। মোদিকে পাশে রেখেই ট্রাম্প সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার অনুমতি দেন।
সার্জিও গোরের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুন ফ্রান্সের এভিয়ানে মোদি-ট্রাম্পের যৌথ উপস্থিতির আগে ট্রাম্প তাকে জানতে চেয়েছিলেন, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ অনুরোধ এসেছে কি না। জবাবে তিনি জানান, ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের প্রশ্ন না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তবে পরে ট্রাম্প সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার সুযোগ দিলেও ওই সময় প্রশ্নের উত্তর দেন মূলত তিনিই। কারণ উপস্থিত সাংবাদিকদের কেউ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি কোনো প্রশ্ন করেননি।
এর আগেও ইউরোপ সফরের সময় মোদির সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্ন গ্রহণ না করার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দেয়। একই সঙ্গে ভারতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।
আমস্টারডাম ও অসলো সফরের সময় সাংবাদিকরা ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের কাছে এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। নরওয়ের এক সাংবাদিক সরাসরি মোদিকে প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তর দিতে চান কি না। তবে ওই প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
পরে অসলোতে ভারতীয় কূটনীতিকদের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনেও এ ইস্যু নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেখানে নরওয়ের সাংবাদিক হেলে লিং ও ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিমাঞ্চলবিষয়ক সচিব শিবি জর্জের মধ্যে প্রশ্নোত্তরকে কেন্দ্র করে তর্কাতর্কির পরিস্থিতি দেখা দেয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই মোদি সরকারের অবস্থান আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনায় উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন: UD 24 News
মন্তব্য করুন