
UD 24 News 🗞️
চীন থেকে ২০টি J-10CE যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ, ব্যয় প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা
বাংলাদেশের বিমানবাহিনী আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীন থেকে ২০টি J-10CE মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত এই প্রতিরক্ষা ক্রয় প্যাকেজের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ দশমিক ৩০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা।
সরকারি সংশ্লিষ্ট নথি ও কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করেছে। সেটি প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান China National Aero-Technology Import & Export Corporation (CATIC)-এর মাধ্যমে সরকার-টু-সরকার পদ্ধতিতে বিমানগুলো কেনার কথা রয়েছে।
কত খরচ হবে?
প্রস্তাবিত হিসাব অনুযায়ী, ২০টি J-10CE যুদ্ধবিমানের মূল মূল্য প্রায় ১ দশমিক ২৫৪ বিলিয়ন ডলার। প্রতিটি বিমানের প্রস্তাবিত মূল্য প্রায় ৬২ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার।
তবে শুধু বিমানের মূল্য নয়—পাইলট ও প্রকৌশলী প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা, লজিস্টিকস, অপারেশনাল সরঞ্জাম, পরিবহন, বীমা, ভ্যাট এবং অবকাঠামো নির্মাণসহ অন্যান্য ব্যয় যুক্ত হওয়ায় পুরো প্যাকেজের মূল্য বেড়ে প্রায় ২ দশমিক ৩০২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত অর্থের মধ্যে প্রায় ৮৮৮ মিলিয়ন ডলার প্রশিক্ষণ, অপারেশনাল সরঞ্জাম, কারিগরি ও লজিস্টিক সহায়তা এবং পরিবহনের জন্য এবং আরও প্রায় ১৫৮ মিলিয়ন ডলার বীমা, ভ্যাট ও নির্মাণকাজের জন্য রাখা হয়েছে।
কেন এই যুদ্ধবিমান কিনতে চায় বাংলাদেশ?
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো এবং পুরোনো যুদ্ধবিমানগুলোর পরিবর্তে আধুনিক মাল্টিরোল ফাইটার যুক্ত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী আধুনিকায়নের জন্য J-10CE যুদ্ধবিমান ছাড়াও অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার ও UAV ব্যবস্থা সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে।
চীনের J-10CE যুদ্ধবিমান নিয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের পেছনে ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের অভিজ্ঞতাকেও একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা। তবে ওই সংঘাতে কোন বিমান কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এ নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; ফলে বিষয়টি প্রতিবেদনে দাবি হিসেবে উল্লেখ করাই নিরাপদ।
কখন চুক্তি হতে পারে?
সরকারি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, অর্থের সংস্থান সম্ভব হলে চলতি অর্থবছরেই ক্রয়প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। তা সম্ভব না হলে পরবর্তী অর্থবছরে কার্যক্রম সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাবিত অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি বরাদ্দের পরিকল্পনাও রয়েছে। বাংলাদেশি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০টি যুদ্ধবিমান কেনার ব্যয় ২০৩৫-৩৬ অর্থবছর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
এখন পর্যন্ত বিষয়টিকে “বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে ২০টি যুদ্ধবিমান কিনছে—চুক্তি সম্পন্ন” বলা যাবে না। বরং সঠিকভাবে বলা যায়, ২০টি J-10CE কেনার প্রস্তাব ও চুক্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে গেছে এবং খসড়া চুক্তি প্রস্তুত হয়েছে। Reuters-ও জানিয়েছে, বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনার দিকে এগোচ্ছে; তবে তাদের প্রতিবেদনে তখন বিমান সংখ্যা, মোট মূল্য বা সরবরাহের সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি।
এই ক্রয় সম্পন্ন হলে এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় প্রতিরক্ষা ক্রয় হতে পারে এবং দেশের বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
মন্তব্য করুন