
প্রেমিক যুগলকে জিম্মি করে চাঁদাবাজির অভিযোগ, ইমামসহ গ্রেপ্তার ৩
চাঁদপুর প্রতিনিধি: চাঁদপুরের মতলব উত্তরে এক প্রেমিক যুগলকে পথরোধ করে জোরপূর্বক আটকে রাখা, মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে মসজিদের এক সাবেক ইমামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নিয়ে রাখা একটি স্মার্টফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল প্রায় ১১টার দিকে পুলিশের অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই প্রেমিক যুগলকে আটকে রেখে হয়রানির অভিযোগ ওঠে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মতলব উত্তরের একটি মসজিদের সাবেক ইমাম মেজবাহ উদ্দিন (৩২), মো. গোলাম হাবিব সুজন (৩৫) এবং স্বাস্থ্য সহকারী জিসান মাহমুদ (৩৮)।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার রাতে আব্দুল্লাহ আল মামুন তার প্রেমিকাকে নিয়ে ফরাজীকান্দি উয়েশিয়া দরবার শরীফ জিয়ারত শেষে বাড়ির পথে ফিরছিলেন। পথে দরবার শরীফের অতিথি ভবনের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের গতিরোধ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, পরে ওই প্রেমিক যুগলকে জোর করে ফরাজীকান্দি শিকদার বাড়ির একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
একপর্যায়ে ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ আল মামুন তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে গোলাম হাবিব সুজনের বিকাশ নম্বরে ৩১ হাজার টাকা পাঠান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি টাকা পরিশোধের শর্তে তার ব্যবহৃত ভিভো ব্র্যান্ডের একটি স্মার্টফোন রেখে দেওয়া হয়। এরপর ভয় দেখিয়ে ওই প্রেমিক যুগলকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার পরও অভিযুক্তরা মোবাইল ফোনে বাকি টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী। পরে তিনি নিরুপায় হয়ে মতলব উত্তর থানায় অভিযোগ করেন।
অভিযোগের বিষয়টি চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানকে জানানো হলে তার নির্দেশনায় পুলিশ অভিযান শুরু করে। মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীব, মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কামরুল হাসান এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলিমুল হক প্রধানের তত্ত্বাবধানে অভিযান পরিচালিত হয়।
পরে এসআই জীবন চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে মেজবাহ উদ্দিন, গোলাম হাবিব সুজন ও জিসান মাহমুদকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত স্মার্টফোনটিও উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মতলব উত্তর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলিমুল হক প্রধান বলেন, প্রেমিক যুগলকে অবৈধভাবে আটক, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং টাকা আদায়ের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন