
UD 24 News 🗞️
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, বিনিয়োগ ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। একই সঙ্গে তিনি সুবিধাজনক সময়ে রাষ্ট্রপতিকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম জানান, বৈঠকে চীনে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফরের বিভিন্ন অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সফরকে কেন্দ্র করে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন এবং মোংলা এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে অগ্রগতির বিষয়টি তুলে ধরেন চীনা রাষ্ট্রদূত।
বৈঠকে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগের সম্ভাবনাও উঠে আসে। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, প্রায় ৩০টি চীনা কোম্পানি বাংলাদেশে মোট প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের মাধ্যমে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী হবে।
বৈঠকে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপ দ্রুত শুরু এবং প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ে ‘টু প্লাস টু’ কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সংলাপ চালুর উদ্যোগ নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ।
বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল, আম ও পেয়ারা রপ্তানির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এর পাশাপাশি সৌরশক্তি, বৈদ্যুতিক যানবাহন সংযোজন কারখানা স্থাপন এবং চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেন উভয় পক্ষ।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রাষ্ট্রপতির মন্ত্রী থাকাকালীন চীন সফরের প্রসঙ্গও স্মরণ করেন।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কূটনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা নতুন মাত্রায় নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।
এ সময় রাষ্ট্রপতির জন বিভাগের সচিব ও সামরিক সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন