
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি পেয়েও ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ, হারেৎসের বিরুদ্ধে মামলা করবেন
UD 24 News 🗞️
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে ‘মিথ্যা’ ও ‘মনগড়া’ দাবি করে সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎস (Haaretz)-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার প্রায় ১০ দিন আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান (MBZ) ব্যক্তিগতভাবে নেতানিয়াহুকে হামাসের সম্ভাব্য বড় ধরনের অভিযানের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে নেতানিয়াহু ও মোহাম্মদ বিন জায়েদের মধ্যে প্রায় ৪৫ মিনিটের একটি ফোনালাপ হয়। সেখানে হামাসের তৎকালীন নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার বড় ধরনের একটি অভিযান প্রস্তুত করছেন বলে সতর্ক করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে হারেৎস। এই অভিযান ব্যাপক রক্তপাত ঘটাতে পারে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে এবং ইসরায়েল ও আরব দেশগুলোর মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ আব্রাহাম অ্যাকর্ডসকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
হারেৎসের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, নেতানিয়াহু ওই সতর্কবার্তায় তুলনামূলকভাবে শান্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন। তিনি ইসরায়েল যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত বলে আশ্বস্ত করেন এবং সম্ভাব্য হামলা গাজা থেকে নয়, বরং অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে আসতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তবে নেতানিয়াহু এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। তার কার্যালয় দাবি করেছে, এমন কোনো ফোনালাপই হয়নি এবং তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছ থেকে ৭ অক্টোবরের হামলা সম্পর্কে কোনো সতর্কবার্তা পাননি। পরে নেতানিয়াহু জানান, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ ও তার সামরিক সচিব সংশ্লিষ্ট সময়ের ফোন রেকর্ড পর্যালোচনা করেও এমন কোনো কথোপকথনের প্রমাণ পাননি।
বুধবার এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু হারেৎসের প্রতিবেদনকে ‘মিথ্যা’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে সংবাদপত্রটির পাশাপাশি প্রতিবেদনের লেখকদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনজীবীদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান।
হারেৎসের প্রতিবেদনটি সাংবাদিক শ্লোমি এলদার ও রুথ ইউভালের আসন্ন বই “Kidnapped: 843 Days of Abandonment”-এর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে কয়েকজন সূত্র, নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে ওই সতর্কবার্তার দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত সরাসরি ওই ফোনালাপের দাবি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাষ্ট্রপ্রধানদের কথোপকথন নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বা জল্পনা-কল্পনার বিষয়ে তারা মন্তব্য করে না। তবে ইসরায়েল ও আমিরাতের মধ্যে খোলা ও সরাসরি যোগাযোগের চ্যানেল রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করা হয়ে থাকে বলেও তারা জানিয়েছে।
৭ অক্টোবরের হামলার আগে ইসরায়েলি নিরাপত্তা ব্যর্থতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির রাজনীতিতে বিতর্ক চলছে। নতুন এই অভিযোগ সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা তার বিরুদ্ধে আগাম সতর্কবার্তা যথাযথভাবে গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
তবে হারেৎসের প্রতিবেদনে করা ফোনালাপ ও সতর্কবার্তার দাবির সত্যতা নিয়ে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি বিরোধ রয়েছে। নেতানিয়াহু অভিযোগটি অস্বীকার করছেন এবং আইনি পথে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালত বা আরও তদন্তের মাধ্যমে কোন দিকে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন